দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন মারা যান। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতিটি মাসেই দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মাসভিত্তিক মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথমার্ধে মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র বুঝতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা, রোগের তীব্রতা এবং বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণের বিস্তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জটিলতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কারও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, ছাদের জমে থাকা পানি কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া উচিত নয়। এসব স্থানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


