ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবারের এ হামলায় প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি বিমানবন্দর এলাকার ঠিক কোন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
হুতিদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল এডেন প্রদেশের বদর শিবিরে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি অস্ত্রের গুদাম। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীটি সৌদি আরবকেও তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
এডেনের নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হুতি আন্দোলনের ছোড়া দুটি রকেট এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে আঘাত হেনেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের দ্বিতীয় হামলার ঘটনা এটি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঠিক কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। পুলিশের একটি সূত্রও এএফপিকে জানিয়েছিল, দুটি রকেট এডেন বিমানবন্দরের আশপাশে আঘাত হেনেছে। পরে আরেকটি সূত্র একই তথ্য নিশ্চিত করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কেউ নিহত হয়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার লক্ষ্য হিসেবে হুতিরা যেসব সামরিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলোর কোনোটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা-ও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে সৌদি আরব স্বীকৃত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, হুতিরা সরকারি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হামলা চালিয়েছে। সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।
এডেন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। শহরটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেসামরিক যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর আশপাশে সামরিক হামলা বিমান চলাচল ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
শুক্রবারের হামলার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে হুতিদের দায় স্বীকার এবং এডেনের নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্যে বিমানবন্দর এলাকায় দুটি রকেট আঘাত হানার বিষয়টি সামনে এসেছে।


