শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে তাঁদের রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি।
গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার কোনাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী এবং দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মিথুল ইসলাম।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর এলাকায় অবস্থিত স্কাই ভিউ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের একটি দল। অভিযানের সময় হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ওমর আলী ও মিথুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে ওই কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচে ডার্বি সিগারেটের একটি প্যাকেটে রাখা ১৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ইয়াবা সেবনের একটি পাইপ, চারটি গ্যাস লাইট ও দুটি ফয়েল পেপার জব্দ করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।
পরে গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক তাহামুদার রহমান বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বিকেলে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি জানান, গ্রেফতার ওমর আলী এর আগেও চাকরিরত অবস্থায় মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বরখাস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, মিথুল ইসলাম রংপুর পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন।
ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে উদ্ধার করা আলামত ও দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।


