চট্টগ্রামের বাঁশখালীর একটি মুদি দোকান থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৫০ কেজি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দোকানটির মালিক স্থানীয় বিএনপি নেতা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার রশিদ আহমদের শ্যালক মো. ইয়াহিয়া। এ ঘটনায় দোকানমালিককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছুড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের রোহাইপাড়া এলাকায় কামরুন্নাহার স্টোরে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজীদুর রহমান তন্ময়ের নেতৃত্বে অভিযানে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানকালে দোকানটিতে ৫০ কেজি ওজনের নয় বস্তা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা চালের মোট পরিমাণ ৪৫০ কেজি।
দোকানটির মালিক মো. ইয়াহিয়া (৩৬) স্থানীয় মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি জব্দ করা চালগুলো তাঁর বোনজামাই রশিদ আহমদের কাছ থেকে কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রশিদ আহমদ পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন।
ইয়াহিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স চিটাগাং স্টোরে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযানের খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান। এ কারণে তাঁর দোকানে তল্লাশির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুঁইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রিদুওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানে সরকারি চাল বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত ডিলার রশিদ আহমদ বলেন, বাঁশখালীর প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মোট ৩২ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার রয়েছেন। তাঁর দাবি, গুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই ব্যয় মেটাতে কিছু চাল বিক্রি করলে অসুবিধা কোথায়, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নির্ধারিত নিয়মে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের কথা। এ কর্মসূচির চাল অন্যত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো নিয়মভঙ্গ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
বাঁশখালী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম হেলালি বলেন, রশিদ আহমদের বিরুদ্ধে আগেও সরকারি চাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। এবারের অভিযানে সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজীদুর রহমান তন্ময় বলেন, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দোকানে মজুত ও বিক্রির দায়ে দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির লক্ষ্য স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে চাল পৌঁছে দেওয়া। এ কর্মসূচির চাল অননুমোদিতভাবে বিক্রি বা মজুত করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চালের উৎস, সরবরাহ ও বিতরণপ্রক্রিয়া যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


