রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকার একটি লিচুবাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০৩টি তাজা হাতে তৈরি ককটেল উদ্ধার করেছে এসআরবি-৫। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে আদুবুড়ি উপরিমাঠ এলাকার ওই বাগানে অভিযান চালিয়ে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। সিমেন্টের একটি বস্তার ভেতরে ককটেলগুলো রাখা ছিল।
বুধবার সকালে এসআরবি-৫-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে হাতে তৈরি ১০৩টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
উদ্ধার করা ককটেলগুলো কারা সেখানে রেখেছিল, কী উদ্দেশ্যে সেগুলো মজুত করা হয়েছিল এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
এসআরবি-৫ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ককটেলগুলো হস্তান্তর করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জব্দ করা বিস্ফোরকগুলোও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিয়ে নিরাপত্তার উদ্বেগ
জনবসতিপূর্ণ বা লোকজনের যাতায়াত রয়েছে—এমন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল পড়ে থাকা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাতে তৈরি এসব বিস্ফোরক অসতর্কভাবে নাড়াচাড়া করলে কিংবা আঘাত লাগলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে এ ধরনের বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত খবর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহজনক বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে সেটি স্পর্শ করা, সরানো বা নিজে থেকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।
রাজশাহীর আদুবুড়ি উপরিমাঠ এলাকার লিচুবাগানে উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলোর উৎস ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এগুলো কারা মজুত করেছিল বা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশের পরবর্তী তদন্তে ককটেলগুলোর উৎস, সেখানে সেগুলো রাখার উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।


