পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে সাইমনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বানারীপাড়া থানায় মামলা করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। পরে তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে কিশোরীটি গোসল করতে পুকুরে যায়। ওই সময় তার মা বাড়ির পাশের একটি জমিতে গরু বাঁধতে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে ঘরে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে সাইমনের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হতে দেখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় কিশোরীর মা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত সাইমন সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেয় বানারীপাড়া থানা-পুলিশ। তিনি ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে আশুলিয়া থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হলে দ্রুত সহায়তা পেতে পারে।
তবে সাইমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হবে।


