মোদির বাসভবনের কাছে ১৫০ বছরের মসজিদে উচ্ছেদ নোটিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ঐতিহাসিক এই মসজিদ খালি করার নির্দেশ দিয়ে ছয় দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অননুমোদিত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মসজিদটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত এবং নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট মুসলিম সংগঠনগুলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থাপনাটি সরকারি জমিতে নির্মিত এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। অন্যদিকে, মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবহার এবং নথিভুক্ত মালিকানার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলো।

মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর প্রকাশের পর। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোও বন্ধ করা হয়েছে। এতে মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায় ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি।

মসজিদটির সুরক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। তিনি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। ওয়েইসির বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবহার ও নথিভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থাপনাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, ভারতের মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদলও মসজিদটি রক্ষায় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা কিরেন রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদ এবং এর পাশের কবরস্থান রক্ষার অনুরোধ জানান। তাঁদের স্মারকলিপিতে মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ পুনর্বহাল এবং মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রিজিজু বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

রেসকোর্স মসজিদকে ঘিরে এই বিরোধে একদিকে সরকারি জমিতে নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে প্রশাসনের আপত্তি, অন্যদিকে ওয়াক্‌ফ স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক মর্যাদার প্রশ্ন সামনে এসেছে। মসজিদটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের ওপর। এর মধ্যে মুসলিম সংগঠনগুলো স্থাপনাটির সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।