নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ভোরে মন্দিরের পাশে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত সুজন চন্দ্র পালের শারীরিক অবস্থার এখনও উন্নতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর বুক থেকে গুলি বের করা হলেও হাসপাতালের শয্যায় তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তিনি। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুজন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী টুম্পা রানী পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন টুম্পা রানী পাল। এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা সুজন চন্দ্র পালকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলাকারীদের মুখোশ পরা থাকায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ সুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তাঁর বুক থেকে গুলি বের করতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সুজনের স্ত্রী ও মামলার বাদী টুম্পা রানী পাল বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর স্বামীর বুক থেকে গুলি বের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। হাসপাতালের বিছানায় তীব্র ব্যথায় ছটফট করছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ওষুধের মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বামীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন টুম্পা রানী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, কী কারণে সুজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে কিংবা এর সঙ্গে পূর্ববিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান এবং মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁরা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলায় একটি মন্দিরের পাশে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। তবে এলাকার মানুষের প্রতিক্রিয়া বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, সুজন পালের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না কিংবা ঘটনাস্থলের আশপাশের কোনো আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এখন পরিবারের প্রধান উদ্বেগ সুজন চন্দ্র পালের শারীরিক অবস্থার উন্নতি। অন্যদিকে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামলার তদন্তে অগ্রগতি হলে হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


