নিহত লিমা আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী একরামুল হকের বয়স ২২ বছর এবং শাশুড়ি ফরিদা বেগমের বয়স ৫০ বছর।
লিমার স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের সময় বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। তাঁদের দাবি, ওই বিরোধের জের ধরেই লিমাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে করা এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশও এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
অন্যদিকে, লিমার স্বামী একরামুল হক দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে বা বিপক্ষে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর পারিবারিকভাবে লিমা ও একরামুলের বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। বিয়ের পর নতুন সংসারে মাত্র কয়েক দিন কাটানোর মধ্যেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান লিমা। সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। এরপর বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। ওই বিরোধের সঙ্গে লিমার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী একরামুল হক ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় এক তরুণীর এমন মৃত্যু স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ এবং আত্মহত্যার দাবির মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে লিমার মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের ফলাফল ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


