রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সাজেকে সড়ক অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধের কারণে সেগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং পরে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হয়।
সংঘর্ষে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের তৎপরতা ও হুমকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতির অবসান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছে।
সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়, মেঘ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে। ফলে সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বন্ধ ঘোষণা সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র
এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়ক অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়া—দুই বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।


