গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাসা থেকে আশিক শেখ (২৬) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত আশিক শেখ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খাওরাইল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের ফরিদপুর গ্রামে স্থানীয় ফজলুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। কাজ করে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে আশিকের ভাড়া নেওয়া ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘরটির আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বাড়ির মালিকের নজরে আসে। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণ জানতে পেরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে আশিকের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘরটি কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তবে কী কারণে আশিকের মৃত্যু হয়েছে, কিংবা মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের বাবা আব্দুল কাদির জানান, তাঁর ছেলে বিবাহিত ছিলেন। আশিকের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে তিনি কাজ করতেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত আব্দুল কাদির বলেন, কয়েক দিন আগে পারিবারিক ঝগড়ার পর আশিকের স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে আশিক একাই ছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে ছেলের সঙ্গে পাঁচ দিন আগে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়েছিল বলে জানান আব্দুল কাদির।
তিনি বলেন, “গত পাঁচ দিন আগে আশিকের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি। আজ ছেলের মৃত্যুর খবর পেলাম।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি ঘটনার আগের কয়েক দিনের পারিবারিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে এই বিরোধের সঙ্গে আশিকের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তদন্তের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এসআই ওবায়দুল হক বলেন, আশিকের মৃত্যু হত্যা, নাকি আত্মহত্যার কারণে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফলাফলের পাশাপাশি আশিকের পারিবারিক পরিস্থিতি, সর্বশেষ যোগাযোগ এবং ঘটনার আগের দিনগুলোতে তাঁর চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘরটি কত দিন ধরে বন্ধ ছিল, ওই সময়ে আশপাশের কেউ কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ করেছিলেন কি না এবং মৃত্যুর আগে আশিকের সঙ্গে কারও দেখা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তবে এসব বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে যুবকের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন। আশিক শেখের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।


