শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ঢাকায় এক দিনেই ভর্তি ৫৫৮ রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৫৫৮। চট্টগ্রামে ১৯৪ জন এবং বরিশালে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যানে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ১৩৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সাত মাসে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই লাখ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষ হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর হিসাব এক নয়। তাই সংক্রমণ ও প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র বুঝতে এ দুই ধরনের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পায়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। টিকা না নেওয়া শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
কিছু ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া, তীব্র পানিশূন্যতা এবং মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এ পরিস্থিতিতে শিশুদের বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত হামের টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি। সন্দেহজনক রোগীকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখাও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং কার্যকর টিকাদান কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


