গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে গাজীপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত তপন চন্দ্র দাস ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাসের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়া এলাকায়। তাঁরা গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন গাজীপুরা ২৭ নম্বর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তপন চন্দ্র দাস ও তাঁর ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, তপন চন্দ্র দাসের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক গাজীপুর ও রাজধানীর মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে মহাসড়কে যেকোনো দুর্ঘটনা প্রাণহানির পাশাপাশি যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বিশেষ করে ভোরের দিকে সড়কে যানবাহনের গতি, দৃশ্যমানতা, পথচারীদের চলাচল এবং সড়কের নির্দিষ্ট অংশে নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর নজরদারি, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি।
তবে গাজীপুরার এই দুর্ঘটনায় কোন গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলে আহত হয়েছিলেন, গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মৃত্যু আবারও মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী যানবাহন শনাক্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা মিলতে পারে।


