রাজধানীর গুলিস্তানে মতিউর রহমান পার্কের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে প্রায় ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন গুলিস্তানের মতিউর রহমান পার্কের সামনে ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির পরনে ছিল ময়লাযুক্ত একটি লুঙ্গি ও কালো গেঞ্জি। তাঁর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান অভি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে গুলিস্তানের মতিউর রহমান পার্কের সামনে ফুটপাত থেকে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত ও পার্কসংলগ্ন স্থানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকে। এমন একটি জনবহুল এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, ওই ব্যক্তি কতক্ষণ সেখানে পড়ে ছিলেন কিংবা মৃত্যুর আগে তিনি কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন কি না—এসব বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বর্তমানে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও পুলিশের পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।



