আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজ দুটি সমুদ্রের নিচে থাকা নৌ-মাইনে আঘাত পায়। এর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে উভয় জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেগুলো অচল হয়ে পড়ে।
তবে বিবৃতিতে সুপারট্যাংকার দুটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ কিংবা সেগুলোতে কী পরিমাণ তেল ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। একই সঙ্গে জাহাজ দুটির নাবিকদের হতাহত হওয়ার কোনো তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মতো জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বিশেষ করে এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বা সরবরাহে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনের উপস্থিতি এবং জাহাজ চলাচলের অনুমোদিত পথ নিয়ে বিরোধ সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নৌ-মাইন পানির নিচে বা সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থান করে জাহাজের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হতে পারে। বড় তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে এমন বিস্ফোরণে ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড ও তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।
এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ উদ্ধার, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, বিস্ফোরণের কারণ, মাইনগুলোর উৎস এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় জাহাজ দুটি কীভাবে মাইনের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো আগে থেকেই ওই এলাকায় পেতে রাখা হয়েছিল কি না কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি এর পেছনে দায়ী কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে এই ঘটনার পর জলপথটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকেরা। তবে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর।


