রাজধানী ঢাকার কয়েকটি ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেলচালকদের লক্ষ্য করে নাইলনের শক্ত সুতা টানিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রাতের অন্ধকারে সড়কের দুই পাশের রেলিংয়ে সুতা বেঁধে রেখে চালকদের দুর্ঘটনার মুখে ফেলা হচ্ছে। কেউ সুতায় আটকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে, আবার কাউকে থামতে বাধ্য করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন, ল্যাপটপ ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। অপরাধের এই কৌশল ‘সুতা ডাকাতি’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
মহাখালী, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ও হানিফ ফ্লাইওভারের কয়েকটি স্থানে এমন ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, সব অভিযোগের সত্যতা এবং একই চক্র এর পেছনে রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
অন্ধকারে সুতা, মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি
অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধীরা ফ্লাইওভারের এমন অংশ বেছে নেয়, যেখানে পর্যাপ্ত আলো নেই বা সড়কবাতি অকার্যকর। গভীর রাতে সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকলে মোটরসাইকেলচালকেরা অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গতিতে চলেন। এ অবস্থায় রাস্তার দুই পাশের রেলিংয়ে টানটান করে বাঁধা নাইলনের সুতা দূর থেকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
মোটরসাইকেল এগিয়ে যাওয়ার সময় সুতা চালকের মুখ, গলা বা বুকের কাছে আঘাত করলে তিনি হঠাৎ ভারসাম্য হারাতে পারেন। গলায় সুতা জড়িয়ে গেলে গুরুতর জখম হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আবার আকস্মিক বাধার মুখে ব্রেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হেলমেট ও সুরক্ষাসামগ্রী থাকলেও শরীরের সব অংশকে এমন আঘাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনায়, চালক পড়ে গেলে বা মোটরসাইকেল থামাতে বাধ্য হলে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসে। এরপর ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মুঠোফোন, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ কিংবা মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কারও কারও অভিযোগ, বাধা দিলে মারধরও করা হয়। অর্থাৎ এটি কেবল সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এ ধরনের ফাঁদ সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘দ্য ইউসুফ শো’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে শনিবার বিকেলে দেওয়া পোস্টে মোটরসাইকেলচালকদের সতর্ক করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও হানিফ ফ্লাইওভারে ‘সুতা ডাকাতি’র আতঙ্কের কথা উল্লেখ করা হয়।
আল ওয়ালিউর রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ১৪ অক্টোবর দুপুর ৩টা ১৩ মিনিটে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের সায়েদাবাদমুখী অংশে সুতায় আহত হওয়ার কয়েকটি ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়। পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এক মোটরসাইকেলচালকের কপাল ধারালো নাইলনের সুতায় কেটে যায়। একই স্থানে আরেকজনের গলার সামনের অংশেও আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়।
ওই পোস্টদাতা নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, একই স্থানে এর আগে তিনিও এমন বিপদের মুখে পড়েছিলেন। মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও হাতে পরা গ্লাভস কেটে গিয়ে তাঁর হাত জখম হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব বর্ণনা জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও প্রতিটি ঘটনার স্থান, সময় ও প্রকৃত পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
মহাখালী ফ্লাইওভারে ছিনতাইয়ের অভিযোগ
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সাইফুর রহমানের বর্ণনায় উঠে এসেছে একই ধরনের একটি ঘটনার কথা। তিনি জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে মহাখালী ফ্লাইওভার দিয়ে বাসায় ফেরার সময় মাঝপথে তাঁর গলায় হঠাৎ কিছু একটা আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতিতে পড়েন।
সাইফুরের ভাষ্য, আঘাতটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে তাঁর মনে হয়েছিল, ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে গলা কেটে দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল থামানোর আগেই চার-পাঁচজন যুবক ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে জিম্মি করে। এরপর তাঁর মানিব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে যায় তারা।
ঘটনাটি তাঁর কাছে একদিকে যেমন আতঙ্কের, অন্যদিকে তেমনি অসহায়ত্বের অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও সব সময় তা পুলিশের কাছে পৌঁছায় না। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ ভয়, ঝামেলার আশঙ্কা কিংবা অন্য কারণে অভিযোগ জানাতে অনীহা দেখাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় অভিযোগ না করার প্রবণতা কতটা বিস্তৃত, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মহাখালীতে আইটি পেশাজীবীর সর্বস্ব হারানোর অভিযোগ
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মহাখালী ফ্লাইওভারে আরেকটি ঘটনার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন আইটি পেশাজীবী তানভীর আহমেদ (৩২)। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, উত্তরার দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। ফ্লাইওভার ফাঁকা থাকায় কিছুটা গতি বাড়িয়েছিলেন।
এ সময় হঠাৎ তাঁর গলা ও বুকের কাছে শক্ত কিছু একটা আঘাত করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেলসহ সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। এতে তাঁর হাত ও মাথায় আঘাত লাগে।
তানভীরের অভিযোগ, তিনি রাস্তায় পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকার থেকে ধারালো অস্ত্র হাতে চার-পাঁচজন যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁর কাছে থাকা দুটি দামি স্মার্টফোন, ল্যাপটপের ব্যাগ এবং মানিব্যাগে থাকা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটির বিবরণ সত্য হলে, এতে একসঙ্গে কয়েকটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে—বিপজ্জনকভাবে সড়কে বাধা সৃষ্টি, শারীরিক আঘাত এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া। তবে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না কিংবা তদন্তের অগ্রগতি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।
হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালের কাছে একই ধরনের আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন মোটরসাইকেলচালক মো. রনি (২৬)। তিনি একজন যাত্রীকে নামিয়ে শ্যামপুরের বাসায় ফিরছিলেন।
রনির বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্লাইওভারের ঢালের একটু আগে তিনি রাস্তার দুই পাশে দুজন ব্যক্তিকে নাইলনের মোটা সুতা টানটান করে ধরে থাকতে দেখেন। বাধাটি চোখে পড়ার পর ব্রেক করার চেষ্টা করলেও মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যায় এবং তিনি সড়কে পড়ে যান।
এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ করেন রনি। তাঁর গলায় রামদা ঠেকিয়ে মোটরসাইকেলের চাবি, পকেটে থাকা নগদ টাকা এবং মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় তারা। রনির দাবি, পুরো ঘটনা ঘটতে মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
রনির বর্ণনায় সড়কে বাধা তৈরির পাশাপাশি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ ধরনের অপরাধে ভুক্তভোগী শুধু আর্থিক ক্ষতির শিকার হন না, তাঁর গুরুতর আহত হওয়া বা প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ফ্লাইওভারে এ ধরনের নৃশংস ছিনতাই ঠেকাতে শুধু পুলিশের তৎপরতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।
তাঁর মতে, প্রতিটি ফ্লাইওভারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং ক্যামেরাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। রাতের বেলায় কোথাও যেন সড়কবাতি বন্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইওভারগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থানমুখে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং চালক ও মোটরসাইকেলচালকদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ।
বিশেষজ্ঞের এসব পরামর্শের পাশাপাশি ফ্লাইওভারে পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত টহল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোথাও সড়কে অস্বাভাবিক কোনো বাধা দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থাও কার্যকর হতে পারে।
পুলিশ বলছে, নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গণি শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের এই নতুন কৌশল সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ ধরনের ঘটনার কথা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর ডিএমপির অপরাধ বিভাগের উপকমিশনারদের সতর্ক করা হবে। রাতের বেলায় ফ্লাইওভারগুলোতে মোবাইল পেট্রোল দল এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ধরনের প্রাণঘাতী ফাঁদ তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আলোচিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে তাদের কাছে আগে কতটা তথ্য ছিল, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অন্ধকার, নজরদারির ঘাটতি ও দ্রুত পালানোর সুযোগ
ফ্লাইওভারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে কয়েকটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর অভাব, সিসিটিভি নজরদারির ঘাটতি এবং রাতের বেলায় সড়ক ফাঁকা থাকার কারণে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। কোনো ঘটনা ঘটার পর ফ্লাইওভারের সংযোগস্থল ধরে আশপাশের সড়ক বা অলিগলিতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও অপরাধীদের সুবিধা দিতে পারে।
তবে রাজধানীর সব ফ্লাইওভারে সিসিটিভি নেই—এমন দাবি যাচাই করার মতো তথ্য এখানে নেই। কোন ফ্লাইওভারে কতটি ক্যামেরা সচল রয়েছে, কোথায় আলোর ঘাটতি আছে এবং রাতের টহল কতটা নিয়মিত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় স্পষ্ট হতে পারে।
এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে শুধু ঘটনার পর অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, সড়কের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা, আলো ও নজরদারি নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ফ্লাইওভারে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বাধা দেখা গেলে তা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকা দরকার।
মোটরসাইকেলচালকদের সতর্কতা জরুরি
রাতের বেলায় ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচলের সময় মোটরসাইকেলচালকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত আলোযুক্ত অংশে গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামনে দৃশ্যমানতা অনুযায়ী নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। অনুমোদিত মানের হেলমেট, হাতের গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারও জরুরি, যদিও এগুলো সব ধরনের আঘাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না।
সড়কে সুতা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক বাধা চোখে পড়লে হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে ব্রেক করা বা পাশ কাটানোর চেষ্টা না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিপদের মুখে পড়লে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সুযোগমতো পুলিশকে জানাতে হবে। ছিনতাইয়ের শিকার হলে নিরাপদ স্থানে গিয়ে দ্রুত অভিযোগ জানানো এবং ঘটনার স্থান, সময় ও অপরাধীদের সম্পর্কে মনে থাকা তথ্য সংরক্ষণ করাও তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
ঢাকার ফ্লাইওভারগুলো নগরবাসীর দ্রুত যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সেখানে চলাচল করতে গিয়ে যদি চালকদের এমন প্রাণঘাতী ফাঁদের আশঙ্কা করতে হয়, তবে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং ফ্লাইওভারভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমেই এই আতঙ্ক কমানো সম্ভব।


