বন্ধুত্বের অবসান রক্তাক্ত সংঘাতে, গাড়িচাপার পর পিটিয়ে হত্যা

ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক তরুণকে গাড়িচাপা দেওয়ার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) এই নৃশংস ঘটনায় নিহত হয়েছেন দেবেশ ওরফে বান্টি দীক্ষিত (৩৬)। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত পবন পরাশর (২২) নিজেই গাড়ি চালিয়ে সিডকো থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দোকানিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন একটি জিমে ব্যায়াম শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বান্টি। এ সময় ওয়াংখেড়েনগর এলাকার বাসিন্দা পবন একটি গাড়ি নিয়ে তাঁর পিছু নেন। গাড়িটির নম্বর প্লেটে ‘৮৩৮’ লেখা ছিল। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ধাওয়া করতে করতে সিডকোর এন-৭ এলাকার মঙ্গেশ গ্যাস এজেন্সির কাছে পৌঁছান পবন। সেখানে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে বান্টির মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেন তিনি। ধাক্কার তীব্রতায় বান্টি সড়কে ছিটকে পড়েন। তাঁর মোটরসাইকেলটি প্রায় ১৫০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।

কিন্তু গাড়ির ধাক্কাতেই থামেননি অভিযুক্ত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়ার পর পবন কিছুটা সামনে এগিয়ে যান। পরে গাড়ি ঘুরিয়ে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। এরপর গাড়ি থেকে নেমে সঙ্গে থাকা একটি লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা বান্টির মাথায় একের পর এক আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সিডকো থানার পরিদর্শক অতুল ইয়েরমে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আশপাশে থাকা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ব্যস্ত সড়কে এমন সহিংসতার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জোন-২-এর উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) রত্নাকর নাভলে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা শুরু করে।

হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পবন নিজেই গাড়ি চালিয়ে সিডকো থানায় যান এবং আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ডিসিপি রত্নাকর নাভলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পবন ও বান্টি দুজনই আলাদা আলাদা বারে বাউন্সার হিসেবে কাজ করতেন। একসময় তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয় এবং দুজনের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধুত্ব ভেঙে শত্রুতায় রূপ নেওয়ার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পবনও তাঁদের মধ্যকার বিরোধের কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

তবে ব্যক্তিগত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিরোধের প্রকৃতি, ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে কোনো কথা-কাটাকাটি হয়েছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রকাশ্য স্থানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি সংগৃহীত প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল।

একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তির সম্পর্ক কীভাবে এমন চরম পরিণতির দিকে গড়াল, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পুলিশের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিরোধ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।