চট্টগ্রাম নগরের একটি গলিতে মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যে এক বৃদ্ধের গলায় ঝোলানো ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে অটোরিকশায় পালিয়েছেন দুই ব্যক্তি। আকস্মিক এ ঘটনায় ব্যাগ হারিয়ে তাঁদের পেছনে ছুটতে দেখা যায় বৃদ্ধকে। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরায়। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইয়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অনেকে।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার আওতাধীন বিবিরহাট কাঁচাবাজারের ১ নম্বর গলিতে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী বৃদ্ধের পরিচয় কিংবা তাঁর ব্যাগে কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের নিরিবিলি গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁর গলায় ঝোলানো ছিল একটি ব্যাগ। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দুই ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন। তাঁদের পেছনে একটি অটোরিকশা চলতে দেখা যায়। বৃদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই ওই দুই ব্যক্তি হঠাৎ তাঁর গলার ব্যাগটি ধরে টান দেন।
আকস্মিক এ আক্রমণে বৃদ্ধ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগটি ছিনিয়ে নেন তাঁরা। এরপর দ্রুত পেছনে থাকা অটোরিকশায় উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ব্যাগটি ফিরে পাওয়ার আশায় বৃদ্ধ তাঁদের পেছনে ছুটতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি ঘটতে সময় লাগে মাত্র ১২ সেকেন্ড।
শনিবার সকালে ‘যোদ্ধা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে ১২৫টি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রশ্ন, নগরের গলির ভেতরেও যদি এভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করবেন কীভাবে?
জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের গলিতে যদি এমন হয়, আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব।’ শাহেদ হোসাইন নামের আরেক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানান। ছালেহ নূর সুজন নামের এক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে? কী করবে? রাস্তা দিয়ে হাঁটাও বন্ধ করে দিতে হবে?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রতিক্রিয়ায় নগরের জননিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নির্জন সড়ক ও গলিতে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, ভিডিওটি নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠিয়েছে পাঁচলাইশ থানা। শনিবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ছিনতাইকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাগে টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কিংবা অন্য কোনো জিনিস ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সিসিটিভি ফুটেজটি দেখেছেন। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজেও সেখানে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ ও ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।
তদন্ত ও শনাক্তকরণের অপেক্ষা
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজটি ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয়, অটোরিকশাটির নম্বর কিংবা ছিনতাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক স্পষ্ট হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধের পরিচয় জানা গেলে ছিনতাইয়ের সময় তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং ব্যাগে কী ছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্ত করা গেলে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার তদন্তে সহায়তা মিলতে পারে।
বিবিরহাটের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, জনবহুল নগরেও আকস্মিক ছিনতাইয়ের শিকার হতে পারেন সাধারণ পথচারীরা। অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি, দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।


