প্রশিক্ষণ চলাকালে মাঝআকাশে দুটি সামরিক বিমানের সংঘর্ষে ফিলিপিন্সের চারজন পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে দেশটির রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমান দুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই চার পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় পড়া বিমান দুটি ছিল এসএফ-২৬০ (SF-260) মডেলের একক প্রপেলারচালিত সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলার সময় বিমান দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে উভয় বিমানই ফার্নান্দো বিমানঘাঁটির সীমানার মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।
দেশটির বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আলভিন ক্যাপিনগুইয়ান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমান দুটি বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় চার পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কী পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণরত দুটি বিমান পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগের কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, উড্ডয়ন ও প্রশিক্ষণের সময় বিমান দুটির অবস্থান কী ছিল কিংবা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রশিক্ষণ বিমান এসএফ-২৬০ নিয়ে দুর্ঘটনা
এসএফ-২৬০ একটি হালকা, প্রপেলারচালিত বিমান, যা সামরিক বাহিনীতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের বিমানে পাইলটদের উড্ডয়ন, বিমান নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য মৌলিক দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সামরিক প্রশিক্ষণের সময় একাধিক বিমান একসঙ্গে উড্ডয়ন করলে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সমন্বিতভাবে নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ফিলিপিন্সের এই দুর্ঘটনায় প্রশিক্ষণ পরিচালনার নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার আগে বিমান দুটির গতিপথ, উড্ডয়ন পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হতে পারে।
সামরিক বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনীর বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন এই দুর্ঘটনা দেশটির সামরিক বিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সামরিক বিমান প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটদের দক্ষতা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং উড্ডয়ন পরিচালনার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে একাধিক বিমান একসঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নিলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং আকাশপথে সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। তবে এসব সাধারণ নিরাপত্তাগত বিষয়কে এই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
চার পাইলটের মৃত্যুতে ফিলিপিন্সের বিমানবাহিনীতে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলেও এর বিস্তারিত ফলাফল কিংবা নিহত পাইলটদের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। আপাতত দেশটির বিমানবাহিনীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চিহ্নিত করা।


