সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ ও পাঁচটি সিন্দুক বা দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো যৌথভাবে খোলে সিলেট জেলা প্রশাসন। সেখান থেকে নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা, এক ভরির বেশি কাঁচা স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মানত হিসেবে পাওয়া শতাধিক গরু ও ছাগলের হিসাবও এতে যুক্ত হয়। টাকা ও অলংকারের পাশাপাশি দানবাক্সের স্তূপের মধ্য থেকে বেশ কিছু মানতের চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা রাজনীতি সংস্কার বিষয়ক একটি ব্যতিক্রমী বেনামি চিঠি জেলাজুড়ে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সরাসরি উপস্থিতিতে এই বিশালাকার গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাজার পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে দিনভর স্বচ্ছতার সঙ্গে গণনার কাজ চলে। বিকেল বেলা জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে সংগৃহীত অর্থ, গহনা ও অন্যান্য দান সামগ্রীর সার্বিক হিসাব পেশ করেন।
দানবাক্সে আসা শত শত চিঠির ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা একটি নামহীন আবেদন। ওই চিঠিতে লেখক দেশের রাজনীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির কর্মী ও সদস্য পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের সুপারিশ করেন। এতে বলা হয়, দলে কর্মী হতে কমপক্ষে এইচএসসি (জিপিএ ৩.৫) এবং সাধারণ সদস্য হতে এসএসসি (জিপিএ ২.৫) পাসের বাধ্যবাধকতা রাখা উচিত। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পরীক্ষার আগে কোনো উঠতি কিশোরকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না করার আকুল আবেদন জানিয়ে লেখা হয়, ‘আই ওয়ান্ট দ্য চেঞ্জ টু কাম থ্রু ইউ’।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল (রহ.) মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রথা ভেঙে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে নতুন সিলগালাকৃত সিন্দুক বসানো হয়। এর পর থেকে নিয়মিত ব্যবধানে যৌথ তত্ত্বাবধানে টাকা গণনার নিয়ম চালু হয়। পূর্ববর্তী চার দফায় যথাক্রমে ২২ জুন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রথম চার দফায় মোট উদ্ধারের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।
বর্তমানে সংগৃহীত সকল অর্থ নির্দিষ্ট সুষম নীতিমালার আওতায় ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা মোতাবেক, প্রাপ্ত মোট দানকৃত অর্থের ৩৫ শতাংশ টাকা সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়, যা মাজারের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে। আর অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনা, সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটাতে ব্যবহার করার নীতি অনুসরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।


