জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স ও ব্যাক-টু-ব্যাক ব্যাটিং বিপর্যয়ের বড় মাশুল গুনতে হলো সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অপসারিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাঁর জায়গায় ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির পূর্ব নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত আশরাফুলের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকার কথা ছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু আগেই নাটকীয়ভাবে তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিল দেশের ক্রিকেট সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
২০২৫ সালে দেশের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে চমক হিসেবে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ পদে আশরাফুলের নাম ঘোষণা করে বিসিবি। প্রাথমিক পরিকল্পনায় তাঁকে স্রেফ আয়ারল্যান্ড সিরিজের একটি স্বল্পমেয়াদি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিরিজে দলের ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে বোর্ড কর্তারা পরবর্তীতে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ব্যাটিং ইউনিট সামলানোর দায়িত্ব পালন করেছেন আশরাফুল। এই সময়ের মধ্যে মাঝেমধ্যে দু-একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বা отдельные ইনিংসে দলের সেরা ব্যাটাররা জ্বলে উঠলেও, পুরো ব্যাটিং অর্ডার হিসেবে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা ও দায়িত্বশীলতার চূড়ান্ত অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা ও মিডল অর্ডারের আকস্মিক ধস বিসিবি নীতি নির্ধারকদের চিন্তায় ফেলে দেয়।
সম্প্রতি সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ও তরুণ ব্যাটিং লাইনআপের করুণ পারফরম্যান্সের পর কারিগরি ও মানসিক সহায়তায় আশরাফুলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন ওঠে। টিম ম্যানেজমেন্টের রিভিউ মিটিং ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের পর্যালোচনায় উঠে আসে—জাতীয় দলের সার্বিক ব্যাটিংয়ে আশানুরূপ কোনো টেকসই অগ্রগতি হয়নি।
আগামী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগেই ব্যাটিং ইউনিটে দৃশ্যমান পরিবর্তন ও ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। নতুন দায়িত্বে আসা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারদের টেকনিক্যাল ত্রুটি ও মানসিক জড়তা দূর করাই এখন বোর্ডের মূল লক্ষ্য।


