বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বিতর্কিত লাল কার্ড দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখার ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড। তবে রেফারির সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে মনে করছেন নেইমার। তাঁর দাবি, মাঠে স্বাভাবিক হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছিল, কিন্তু নেস্তর বিষয়টিকে অযথা বড় করে তুলেছেন।
ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা ব্রাজিলেইরো সিরি আ-তে নিজেদের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে বাহিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস। নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলেও যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে গোল করে পরাজয় এড়ায় স্বাগতিকেরা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে নেইমারের লাল কার্ডের ঘটনাই বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বাহিয়ার হয়ে গোল করেন ডিফেন্ডার লুসিয়ানো জুবা। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় সফরকারী দল। এরপর সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা পাচ্ছিল না সান্তোস। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে লুয়ান পেরেজ পেট্রোনির গোলে সমতা ফেরায় দলটি। এতে ঘরের মাঠে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় সান্তোস।
তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ঠিক আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ম্যাচের আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাহিয়ার খেলোয়াড় রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন নেইমার। সেই সময় ম্যাচের রেফারি স্যাভিও পেরেইরা সাম্পাইও অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে নেস্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনার পর নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন রেফারি।
ঘটনার সময় দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ঠিক কী কথাবার্তা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে অসন্তোষ গোপন করেননি নেইমার। মাঠ ছেড়ে সাজঘরে ফেরার সময় প্রতিপক্ষের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে স্বাভাবিক কথাবার্তা চলছিল, কিন্তু নেস্তর এমন আচরণ করেছেন যেন গুরুতর কিছু ঘটেছে।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমরা মাঠে মজা করছিলাম, একে অপরকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে যাই। আমি ভুলবশত আমার হাত মুখের ওপর নিয়ে এসেছিলাম এবং তখনও আমি মুখ খুলে কিছু বলিনি, ঠিক তার আগেই সে নিজের হাত তুলে নাটক শুরু করল।’
এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি ফুটবলের সবচেয়ে নোংরা কৌশলগুলোর একটি! আর আমি নেস্তরকে দেখে নেব।’
লাল কার্ড দেখার আগে অবশ্য আরেকটি ঘটনায় হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন নেইমার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের বুকে বল ছুড়ে মারার কারণে তাঁকে প্রথমবার সতর্ক করেন রেফারি। পরে নেস্তরের সঙ্গে কথোপকথনকে কেন্দ্র করে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় ম্যাচে তাঁর আর খেলার সুযোগ থাকেনি।
এই শাস্তির প্রভাব পড়তে পারে সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাল কার্ডের কারণে বুধবার পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না নেইমার। পাশাপাশি, চলতি মৌসুমে তিনটি হলুদ কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী সোমবার ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষেও তাঁর অনুপস্থিত থাকার কথা।
সান্তোসের জন্য এটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আক্রমণভাগে নেইমারের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে না পাওয়া কোচের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের অন্যতম পরিচিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সামলানো সহজ হবে না।
বাহিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোয় সান্তোস এক পয়েন্ট পেয়েছে। কিন্তু নেইমারের লাল কার্ড ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সেই স্বস্তিকে অনেকটাই আড়াল করেছে। একদিকে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে নেইমারের ক্ষোভ, অন্যদিকে ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় নেওয়া সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
নেইমার তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে মনে করলেও মাঠের শাস্তি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এখন সান্তোসের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে তাঁকে ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা ধরে রাখা।


