নিরাপত্তা শঙ্কা কাটিয়ে ওয়েবসাইট চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট আবার চালু হয়েছে। ঝুঁকি পর্যালোচনা শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি সচল করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার জরুরি নিরাপত্তার কারণে এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণের পর এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলো সমাধানে কী ধরনের কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদেরা কাজ করছেন। একই ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কায় পিএইচপি প্রযুক্তিতে তৈরি কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনলাইন অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোই ছিল এ ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এ ধরনের দুর্বলতা সফলভাবে কাজে লাগানো হলে সার্ভারে থাকা ফাইল, ডেটাবেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ইতিমধ্যে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ, সার্ভারের কনফিগারেশন এবং কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।

ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। এই ভাষায় তৈরি কোনো সফটওয়্যারে গুরুতর দুর্বলতা পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট সার্ভারের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে এমন ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সফটওয়্যারের সংস্করণ যাচাই, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে বোঝা যায়, পিএইচপির সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেওয়া পদক্ষেপের ধরন এক ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

এদিকে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপি প্রযুক্তিতে তৈরি নয়। ফলে এসব ওয়েবসাইট পিএইচপির নির্দিষ্ট ত্রুটির সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্য সফটওয়্যার বা সার্ভারের দুর্বলতা থেকে সুরক্ষার জন্য সেগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি পিএইচপির ব্যবহৃত সংস্করণ যাচাই, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন তথ্য ও সেবায় প্রবেশের সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েবসাইট চালু করাই নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র মানদণ্ড নয়। শনাক্ত হওয়া দুর্বলতা যথাযথভাবে সমাধান করা, সার্ভারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখাও জরুরি।

বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তার ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল সেবার ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।