লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন: শিক্ষক গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর এলাকার এহ্ইয়াউল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্ত এবং ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ও পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তাঁর পরিবার মাদ্রাসাটির আবাসিক বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিশুটি ইতিমধ্যে কোরআনের চার পারা হিফজ সম্পন্নও করেছিল। কিন্তু পরিবারের অজান্তে মাদ্রাসার ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নির্যাতন। শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম ও প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদ যৌথভাবে ওই আবাসিক শিক্ষার্থীর ওপর বারবার যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন।
নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি শিশুটি তার স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) শিশুটির মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল গন্ধব্যপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেদিন বিকেল চারটার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ শেখার পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এসে যদি শিশুরা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় আস্থা রাখবে? তিনি তাঁর সন্তানের ওপর হওয়া এই পাশবিকতার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মায়ের করা সুনির্দিষ্ট এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ কালবিলম্ব না করে অভিযান চালায় এবং মূল অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিমকে আইনের আওতায় আনে। রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান ও সোর্স নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ক্ষুব্ধ পুরো গন্ধব্যপুর এলাকা। অভিযুক্তরা যাতে কোনো অবস্থাতেই আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে ছাড় না পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।