নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিল্লাল মিয়া (২২), হারুন (২৭) ও রুবেল (২৫)। রোববার দুপুরে তাঁদের নেত্রকোনা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওই তরুণীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ গড়ে ওঠে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা বিল্লাল মিয়ার। ফোনে কথোপকথনের পর দুজনের সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সূত্রে গত শনিবার রাতে বিল্লালের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর গ্রামের বাড়ির এলাকায় যান তরুণী।
তরুণীর অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর বিল্লাল তাঁকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে কাশিপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যান। পরে মাঠের একটি নির্জন স্থানে বিল্লাল তাঁর দুই বন্ধু হারুন ও রুবেলকে নিয়ে তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর তরুণী কৌশলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি কেন্দুয়া থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
রোববার সকালে কাশিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বিল্লাল মিয়া মঙ্গল মিয়ার ছেলে, হারুন রোস্তম আলীর ছেলে এবং রুবেল এখলাস মিয়ার ছেলে। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে বিল্লাল, হারুন ও রুবেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সজল সরকার জানান, তরুণীকে চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পুলিশি পাহারায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।


