মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে আলোচনায় আসা নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে পরিচিত তাইজুল ইসলামকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারী তাঁর স্ত্রী। তবে তাঁর এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাইজুল ইসলাম কোনো ইউনিটের সভাপতি ছিলেন না; তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ বা এ বিষয়ে দলীয় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাইজুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় ভিডিও ধারণের অভিযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. রাকিবুল হাসান জানান, মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে আপাতত নতুন কোনো তথ্য নেই।
সাধারণ ডায়েরি মূলত কোনো ঘটনা বা আশঙ্কার বিষয় পুলিশকে অবহিত করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। তবে জিডি করা মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া নয়। একইভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করা যায় না।
ঘটনাটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত, তাইজুল ইসলামের বক্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—তিনটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ভিডিও ধারণের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি।


