৭৫ হাজার টাকার শাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। আগের মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা এ মামলায় আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে। এদিকে, চলমান বিতর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার দীর্ঘদিনের অর্জন, সম্মান ও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালত তানজিন তিশাকে নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় করা ওই মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তানজিন তিশা বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর মুঠোফোনে কথা বলার সময় বাদীকে হুমকি দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি যদি তোমার পেছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না।’ এ ছাড়া ডিবি পুলিশকে নিয়ে বসার কথাও তানজিন তিশা বলেছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, আগের মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। এর পরই মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলাটি করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে তানজিন তিশার ক্ষোভ প্রকাশ
মামলা ও অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া জানান তানজিন তিশা। সেখানে নিজের দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী লেখেন, ‘এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কিসের জন্য? আর এর পেছনে কারা?’
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, দুই বোনের একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গল্প তৈরি করা হয়েছে। পরে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার সম্মানহানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তানজিন তিশা দাবি করেন, চলমান বিরোধের বিষয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে সেসব তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব কার—আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার—তা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন অভিনেত্রী।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘অনেক প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে, তথ্যপ্রমাণও আছে। কিন্তু সেই সত্য ও প্রমাণ মানুষের সামনে তুলে ধরবে কে? আদালত, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে কাউকে জনসমক্ষে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, শুধু অভিযোগ করা হলেই কি তা সত্য হয়ে যায়? বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়েও নিজের সংশয়ের কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি
৭৫ হাজার টাকার শাড়িকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন একাধিক আইনি অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে বাদী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো ও সম্মানহানির চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
তবে নতুন মামলায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং আগের মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বাদীর আপত্তি এবং অভিনেত্রীর বক্তব্য—সবকিছুই চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে তানজিন তিশাকে কারণ দর্শাতে হবে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিরোধের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট হতে পারে। এর আগে কোনো পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


