রাজধানীর তুরাগে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত থাকার সন্দেহে রুনা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী অপু মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে তুরাগ থানার দলিপাড়া এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরের ৬/এ সড়কের শেষ মাথায় ৫১ নম্বর বাড়ির গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্বামীকে ছুরিসহ আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে অপু মিয়া তাঁর স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন রুনা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত অপু মিয়াকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে দাম্পত্য কলহ
নিহত রুনা আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতকান্দা গ্রামের মো. হাদিস মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী অপু মিয়া একই উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের মো. সবুজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত—এমন সন্দেহ থেকে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা কিংবা হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী রুনার এমন মৃত্যুতে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সব দিক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, চলছে আইনগত কার্যক্রম
ঘটনার পর পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কী ঘটেছিল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক বিরোধ বা সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে সহিংসতা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তুরাগের এই ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এখন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা।


