দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পোশাকপল্লী আগানগরে চাঁদা না দেওয়ায় মো. সিরাজ নামের এক প্রতিষ্ঠিত তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী স্থানীয় ‘লিজা সিরাজ গার্মেন্টস’-এর স্বত্বাধিকারী। এ ঘটনার পেছনে এলাকাটিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তরিকুল্লা তারিকের দুই ছেলে ইমরান হোসেন রাজ ও সম্রাট হোসেন এবং তাঁদের সঙ্গীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সিরাজকে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্যে এই পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম তৈরি পোশাকের পাইকারি বাজার হিসেবে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ ও আগানগরের খ্যাতি দীর্ঘদিনের। সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পোশাক সংগ্রহ করতে আসেন এবং প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। অথচ এ বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধী চক্রের কুনজর রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। কোনো ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও দোকানপাট ভাঙচুরের শিকার হতে হতো।
হঠাৎ করে দিনের আলোয় মো. সিরাজের ওপর এ ধরনের হামলার খবরে পুরো কালীগঞ্জ ও আগানগর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাববোধ তৈরি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ীর ওপর যদি নিজ কর্মস্থলের কাছে এভাবে হামলা হতে পারে, তবে সাধারণ ছোট ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই ভঙ্গুর। এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে আগানগরের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হবে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারাও এখানে আসতে ভয় পাবেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগানগরের ব্যবসায়ী ও সচেতন এলাকাবাসী অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। প্রশাসনের কাছে তাঁদের জোরালো আবেদন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব বিবেচনা না করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। শীর্ষ সন্ত্রাসী তরিকুল্লা তারিকের দুই ছেলে ইমরান হোসেন রাজ ও সম্রাট হোসেনসহ হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা দরকার। একই সঙ্গে আগানগর ও কালীগঞ্জের পোশাকপাড়ায় ব্যবসায়ীদের ভয়হীন পরিবেশে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে স্থায়ী পুলিশি টহল ও কঠোর নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


