বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকার সরকারি পুকুরপাড় সংলগ্ন বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তের অগ্রগতি থেকে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর নাহার দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় একাই থাকতেন। তাঁর এক ছেলে প্রায় ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অন্য ছেলে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি প্রতিদিন সকাল ৭টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন এবং সাধারণত সন্ধ্যায় ফিরে আসেন।
বুধবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ওই ছেলের সঙ্গে নূর নাহারের কথা হয়েছিল বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এরপর দিনের বাকি সময়ে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁর এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ঢাকায় বলে জানা গেছে।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে নূর নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি বলেন, বৃদ্ধার মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া বাসা থেকে দুটি মুঠোফোন পাওয়া যাচ্ছে না। বাসার পেছনের লোহার দরজাটি খোলা ছিল কি না এবং সেটি কীভাবে খোলা অবস্থায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই দরজা দিয়ে মূলত বাসার ভাড়াটেরা যাতায়াত করতেন। ফলে দরজাটির ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের অবস্থা, আঘাতের চিহ্ন, মুঠোফোনের অনুপস্থিতি এবং বাসার পেছনের দরজার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নূর নাহারকে ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের ফলাফল, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


