রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় নীলসাগর এক্সপ্রেস। নির্ধারিত পথে চলতে থাকা ট্রেনটি মির্জাপুর স্টেশন অতিক্রম করার পর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এগিয়ে যায়। এরপর মহেড়া রেলস্টেশনের আনুমানিক দুই কিলোমিটার পূর্বে পৌঁছালে ট্রেনটির কয়েকটি বগির একটি লাইনচ্যুত হয়।
এ সময় বিকট শব্দ হলে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ট্রেনের টিকিট পরিদর্শক (টিটি) রাসেল চালককে বিষয়টি জানান। পরে চালক ট্রেনটি মহেড়া স্টেশনের কাছে থামান। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মহেড়া রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার রকিবুল হাসান জানান, ট্রেনটির ‘ঠ’ নম্বর বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে লাইনচ্যুত বগিগুলো আলাদা রেখে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণে টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু পূর্বপার স্টেশনে দুটি ট্রেন আটকা পড়েছে। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলপথে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনার কারণে শুধু সংশ্লিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরাই নন, একই পথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেন আটকে গেলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং পরবর্তী যাত্রার পরিকল্পনাও ব্যাহত হতে পারে।
মহেড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে লাইনচ্যুত বগি সরানো এবং রেলপথ সচল করার প্রয়োজন হবে। তবে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে এবং কখন ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের ট্রেন চলাচলের সর্বশেষ অবস্থা জেনে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


