রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১, উদ্ধার চোলাই মদ

রাঙামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ ও পরোয়ানাভুক্ত একজন, আরেকজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং প্রতারণার অভিযোগে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া অভিযানে তিন কিশোরকে আটক করা হলেও পরে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে একজনের হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রতি লাল চাকমা (৫২) নামের একজনের হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন মজিবুর রহমান (৫৬), মো. জয়নাল (২৮), মো. মনির হোসেন (৪০) ও মো. রায়হান আলী (৪০)।

এ ছাড়া মোহাম্মদ ইউসুফ (২৬) নামের একজনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ধরনের পরোয়ানার ভিত্তিতে এনায়েত উল্লাহ ওরফে রাসেল (৩০) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, প্রতারণার অভিযোগে সুমন তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানে আটক হওয়া তিন কিশোরকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, তাঁদের বেসামাল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করা হয়েছিল। পরে কিশোরদের অভিভাবকেরা তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।

রাঙামাটির মতো পাহাড়ি শহরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। মাদকদ্রব্যের অবৈধ বেচাকেনা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করে। এ ধরনের অপরাধের অভিযোগে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, “আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও পরোয়ানার ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।