নিহত দুই শিশু হলো আরবিয়া (৮) ও রাবিয়া (৬)। তারা তারাকান্দা উপজেলার পশ্চিম তালদিঘী গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমানের মেয়ে। সকালে মায়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরপরই তাদের জীবনে নেমে আসে এই মর্মান্তিক পরিণতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে দুই শিশুর মা ফাতেমা আক্তার গৃহকর্মীর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিল দুই মেয়ে। তাঁরা ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের পশ্চিম তালদিঘী অংশে পৌঁছে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এমন সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান দুই শিশুকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
চোখের সামনে দুই সন্তানকে হারিয়ে মা ফাতেমা আক্তার শোকাহত হয়ে পড়েন। সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া পরিবারটির জন্য মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যায়। দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, দুই শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান এসে তাদের চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দুর্ঘটনার ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে, চালক ইচ্ছাকৃতভাবে শিশু দুটিকে চাপা দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল, নাকি চালকের অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর মনে হয়েছে, কাভার্ডভ্যান চালানোর সময় চালক ঘুমিয়ে ছিলেন। এ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত দুই শিশুর মরদেহ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সড়কে এমন দুর্ঘটনা আবারও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় শিশুদের ঝুঁকি কমাতে চালকদের সতর্কতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ঘটনায় চালকের প্রকৃত ভূমিকা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।


