ঢাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, অংশ নেবেন প্রায় ১,৫০০ রাবিয়ান
স্মৃতির টানে, বন্ধুত্বের আহ্বানে আর প্রাণের বিদ্যাপীঠের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় আবারও এক ছাদের নিচে মিলিত হতে যাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের চেনা মুখ, ক্যাম্পাসজীবনের সোনালি দিন, আড্ডা, আনন্দ আর পারস্পরিক সম্প্রীতির আবহে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা (RUAA Dhaka)-এর দিনব্যাপী সাধারণ সভা ও গেট টুগেদার।

রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে সকাল ১০টায় শুরু হবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ মিলনোৎসবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রাবিয়ান সারাদিনের নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হবে স্মৃতি, আবেগ, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার এক অনন্য মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, বর্তমানে চেয়ারম্যান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন –
আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক, রুয়া – ঢাকা।
মূল অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করবেন- আইয়ুব আলী খান, আহ্বায়ক – অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটি। সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবের – কে এম আরিফুজ্জামান, সদস্য সচিব, রুয়া – ঢাকা।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সাধারণ সভা কিংবা পুনর্মিলনী নয়; বরং এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার একটি আন্তরিক প্রয়াস। জীবনের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সহপাঠী, অগ্রজ ও অনুজদের আবারও কাছে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এই মিলনমেলা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম, তারুণ্য, ভালোবাসা আর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের ঠিকানা। মতিহারের সবুজ চত্বর, প্যারিস রোড, শহীদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ, প্রিয় শিক্ষকদের সান্নিধ্য আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি আজও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অমলিন।
সময়ের ব্যবধানে কেউ হয়েছেন শিক্ষক, কেউ প্রশাসক, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ ব্যবসায়ী কিংবা পেশাজীবী। জীবনের ব্যস্ততায় দূরত্ব বেড়েছে, বদলেছে পরিচিত পরিবেশ; কিন্তু মতিহারের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক বদলায়নি। সেই শেকড়ের টানেই আবারও একত্রিত হবেন প্রায় দেড় হাজার রাবিয়ান।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বন্ধন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছে, এই আয়োজন সেই বন্ধনকে আরও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের।
মতিহারের স্মৃতি বুকে নিয়ে, শেকড়ের টানে আবারও একদিন—সব পথ যেন মিলবে রাবিয়ানদের মিলনমেলায়।


