রাজধানীর কল্যাণপুর ও আশপাশের এলাকায় মশাল মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার নেতাকর্মীরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন বলে জানা গেছে। মিছিলটি দারুসসালাম এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিছিলটি যাত্রা শুরু করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে জ্বলন্ত মশাল দেখা যায়। তাঁরা বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যান। মিছিলের পুরো পথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও এর শুরু ও শেষের স্থান সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলের বিভিন্ন মুহূর্ত দেখা গেছে। ভিডিওতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে মশাল হাতে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে এবং স্লোগান দিতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার নেতাকর্মী।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের নির্দেশনায় কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। তবে এ বিষয়ে তারেকুজ্জামানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মিছিল আয়োজন ও পরিচালনায় তাঁর ভূমিকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের বাইরে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিছিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সেকেন্ড ইন কমান্ড (টুআইসি) মো. ফজলুল হক। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে দারুসসালাম থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের একটি মশাল মিছিল শুরু হয়। পরে সেটি শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
তবে মিছিলের শুরুর স্থান নিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন তাঁর থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো মিছিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক দারুসসালাম এলাকা থেকেই মিছিল শুরুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে মিছিলটির সুনির্দিষ্ট যাত্রাস্থল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও মিছিলের অস্তিত্ব ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এর সমাপ্তির বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেছে, শুরুর স্থান নিয়ে স্থানীয় থানার ওসির বক্তব্যের সঙ্গে সেটির মিল নেই।
রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচিতে সড়কে মানুষের চলাচল, যানবাহন এবং আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে শনিবারের এই মিছিলের কারণে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিছিলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এর বাইরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কর্মসূচি ঘিরে কোনো আটক, মামলা কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের তথ্যও প্রাথমিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।


