আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের এই হারের পরিবর্তন আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা, বিদেশে অর্থ পাঠানো, প্রবাসীদের উপার্জন দেশে আনা এবং বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার সম্পর্কে আগ্রহ রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে।
আজ সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৪৮ পয়সা। অন্যদিকে, ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৬৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৭৪ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার একেক রকম। তবে মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ এবং ব্যাংকভেদে লেনদেনের শর্তের কারণে প্রকৃত বিনিময় হারে পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
আজকের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান কয়েকটি বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নিচে দেওয়া হলো।
| মুদ্রার নাম | ক্রয়মূল্য (টাকা) | বিক্রয়মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২৪.৩০ | ১২৪.৩০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৬.৪৫ | ১৬৬.৪৮ |
| ইউরো | ১৩৮.৬৯ | ১৩৮.৭৪ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭ | ০.৭৭ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৭.৩৮ | ৮৭.৪৫ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.৫৮ | ৯৬.৬৮ |
| কানাডীয় ডলার | ৮৮.৯৫ | ৮৮.৯৫ |
| ভারতীয় রুপি | ১.৩০ | ১.৩০ |
| সৌদি রিয়েল | ৩২.৯৪ | ৩২.৯৪ |
দ্রষ্টব্য: উপরের হারগুলো সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। মুদ্রার বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ হার জেনে নেওয়া উচিত।
প্রবাসীদের জন্য বিনিময় হারের গুরুত্ব
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান, যা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার অনুকূলে থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রকৃত প্রাপ্ত অর্থ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিনিময় হার, অর্থ পাঠানোর মাধ্যম, সেবামাশুল এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তের ওপর।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলে মুদ্রার দর
আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের বিনিময় হার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিকারকদের বিদেশি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। ফলে বিনিময় হারে পরিবর্তন হলে পণ্য আমদানির ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকেরা বিদেশি মুদ্রায় আয় করেন বলে সেই অর্থ টাকায় রূপান্তরের সময় বিনিময় হার তাঁদের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, চিকিৎসা, ভ্রমণ কিংবা পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও মুদ্রার দর জানা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর মতো বহুল ব্যবহৃত মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন ব্যক্তিগত বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখানে প্রকাশিত হারকে সব ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য চূড়ান্ত লেনদেনমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কেনা ও বিক্রির হার, নগদ মুদ্রা বিনিময় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই বড় অঙ্কের লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ দর যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।



