বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী মুজা ও সঞ্জয় আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিনের সংগীত-সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এবার তাঁরা প্রকাশ করেছেন নতুন গান ‘একা একা’। এর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই দুই সংগীতশিল্পী তাঁদের যৌথ সংগীতযাত্রায় যুক্ত করলেন আরও একটি নতুন সৃষ্টি।
এর আগে মুজা ও সঞ্জয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ঝুমকা’, ‘সেই আশাতে’ ও ‘কয়নরে’ গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত প্রযোজক হিসেবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিশেষ করে মুজার কণ্ঠে প্রকাশিত একাধিক গানের সংগীতায়োজন ও প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করেছেন সঞ্জয়। ফলে তাঁদের এই নতুন সহযোগিতা নিয়ে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘একা একা’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মুজা। গানটির কথা যৌথভাবে লিখেছেন মুজা ও সঞ্জয়। এর সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বেও রয়েছেন সঞ্জয়। গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজনে দুই শিল্পীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সৃজনশীল সমন্বয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।
গানটির সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন হেক্টর তোরো। এতে মুজা ও সঞ্জয় দুজনকেই দেখা গেছে। নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মেঘনা চক্রবর্তী, সেলেনা রাজন ও রিদি শেখ। কাইনেটিক মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশিত গানটির ভিডিও ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।
মুজার সংগীতযাত্রায় নতুন সংযোজন
বাংলাদেশি শ্রোতাদের কাছে মুজা প্রথম ব্যাপক পরিচিতি পান লোকগান ‘নয়া দামান’-এর নতুন সংগীতায়োজনের মাধ্যমে। ঐতিহ্যবাহী এই গানকে সমকালীন সংগীতের আবহে নতুনভাবে উপস্থাপন করে তিনি শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মূল গানের লোকজ আবেদন অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক সংগীতের উপাদান যুক্ত করার মধ্য দিয়ে তাঁর সংগীতচর্চার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
‘নয়া দামান’-এর সাফল্যের পর বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ এবং নতুন গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মুজা। তাঁর সংগীতে বিভিন্ন ঘরানার প্রভাব লক্ষ করা যায়। বাংলা গানের ঐতিহ্য, আধুনিক সংগীতের আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক সংগীতধারার সমন্বয় তাঁর কাজকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংগীতে সঞ্জয়ের পরিচিতি
অন্যদিকে, সঞ্জয় দেব আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে একজন ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তাঁর সংগীত প্রযোজনায় গান করেছেন অরিজিৎ সিং, গুরু রনধাওয়া, সুনিধি চৌহান, জোনিতা গান্ধী, বেনি দয়াল, নোরা ফাতেহি, কোনা, হাবিব ওয়াহিদ ও জেফারের মতো শিল্পীরা।
বিভিন্ন সংগীতধারার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার কারণে সঞ্জয়ের প্রযোজনায় বৈচিত্র্য এসেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক সংগীতের আধুনিক উপাদানকে দক্ষিণ এশীয় সংগীতের পরিচিত সুর ও ছন্দের সঙ্গে মেলানোর ক্ষেত্রে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
গত জুনে কানাডায় ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট আয়োজনে পারফর্ম করেও আলোচনায় আসেন সঞ্জয়। ওই পরিবেশনায় নিজের বাংলাদেশি বংশপরিচয় তুলে ধরতে পোশাকে বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ও প্রতীকী উপস্থাপনা যুক্ত করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি নিজের শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরার এই উদ্যোগও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
যৌথ সংগীতযাত্রায় নতুন অধ্যায়
মুজার কণ্ঠ এবং সঞ্জয়ের সংগীত প্রযোজনার সমন্বয় তাঁদের যৌথ কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ‘ঝুমকা’, ‘সেই আশাতে’ ও ‘কয়নরে’র পর ‘একা একা’ সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিল।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীদের আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে কাজের সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও দক্ষিণ এশীয় সংগীতের উপাদানও নতুন আঙ্গিকে বিশ্বসংগীতের পরিসরে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। মুজা ও সঞ্জয়ের মতো শিল্পীদের কাজ সেই প্রবণতার একটি উদাহরণ।
‘একা একা’র মাধ্যমে দুই সংগীতশিল্পী আবারও তাঁদের সৃজনশীল রসায়নের পরিচয় দিয়েছেন। নতুন গানটি তাঁদের যৌথ কাজের তালিকায় আরেকটি সংযোজন হয়ে থাকল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা সংগীতের আধুনিক উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও এটি নতুন একটি উদ্যোগ।


