সহকর্মীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। কর্মস্থলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রবিবার (১ নভেম্বর) ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষিকা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।
আদালতে পেশ করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাহপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খান দীর্ঘদিন ধরেই ওই বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন নারী শিক্ষিকাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি কর্মস্থলে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা ছাড়াও জোরপূর্বক স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। শুধু স্কুলেই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ছুটির দিনগুলোতেও তিনি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে অশালীন এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতেন।
ঘটনার চরম পর্যায়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক ওই নারী শিক্ষিকাকে স্কুল ভবনের তৃতীয় তলার নির্জন কক্ষে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিজেকে তার কবল থেকে রক্ষা করে সেখান থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। এই ঘটনার পর শিক্ষক আলাউদ্দিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের ক্ষমতা অপব্যবহার করে ওই নারী শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুত করেন।
প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেবল এটিই নয়; তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অপর এক নারী সহকর্মীও চরম অতিষ্ঠ হয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন। একের পর এক এমন নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা সামনে আসার পর বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রী এবং অন্যান্য নারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এমনকি উক্ত শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের শিকার হয়েছেন তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন ছাত্রী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার নিজস্ব পরিবার ও স্বামী থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক আলাউদ্দিন তাকে প্রতিনিয়ত কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এমনকি বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে তার কক্ষে আধঘণ্টা সময় কাটানোর মতো কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাবও দেন তিনি। পরবর্তীতে এসবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নারীকে নানা মনগড়া অপবাদে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। ভুক্তভোগী প্রাক্তন ওই শিক্ষার্থী এই অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বরখাস্তের জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, এই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি বিশেষ মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত ও প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।