কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় এক জেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এতে নৌকায় থাকা আরও অন্তত পাঁচজন জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী উপকূলীয় এলাকায় সাগরের মাঝে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জেলের নাম মো. হোসেন (৪৫)। তিনি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন এলাকার অধিবাসী বশরের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে টেকনাফ সদরের উত্তর লম্বরী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনায় আহত অন্য পাঁচ জেলে হলেন—আবুল কালাম (৩০), আবুল কাসিম (২৪), ওসমান (২৫), শফি আলম এবং হামিদুল হক। তারা প্রত্যেকেই টেকনাফ সদরের উত্তর লম্বরী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রলার ও নৌকাভিত্তিক মৎস্যজীবী।
নৌকার মাঝি ও ঘটনায় আহত জেলে হামিদুল হক সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, সোমবার দুপুরের দিকে তারা মোট ছয়জন জেলে লম্বরী নৌকা ঘাট থেকে একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সারাদিন সাগরে অবস্থানের পর সোমবার দিনগত রাত অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তারা সাগরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে জাল ফেলেন এবং মাছের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হয়।
সাগরের বুক আচমকা উত্তাল হয়ে ওঠার পরপরই একটি বিকট শব্দে বজ্রপাত সরাসরি তাদের অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকাটির ওপর এসে পড়ে। বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে নৌকায় থাকা মো. হোসেন ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত ও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। একই সাথে নৌকার মাঝি সহ বাকি পাঁচজন জেলে তীব্র শক ও আঘাতে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর পরই আহত অন্য জেলেরা দ্রুত তাদের নৌকা নিয়ে তীরের দিকে ফিরতে শুরু করেন। তীরের কাছে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রলারের মালিকের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মো. হোসেনকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন জানান, সাগরে বজ্রপাতের ঘটনায় আহত এক জেলেকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে নৌকার মালিক আবদুল আমিন জানান, আকস্মিক বজ্রপাতে নৌকার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং এতে থাকা এক জেলের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত বাকি পাঁচ জেলেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তারা আপাতত বিপদমুক্ত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। এই ঘটনায় লম্বরী উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর মাঝে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।


