আসন্ন এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টকে লক্ষ্য রেখে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কাতারভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে ঘরের মাঠে খেলোয়াড়দের নিবিড় অনুশীলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৮টি দলের এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য ছিনিয়ে আনার উদ্দেশ্যে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করছেন দেশের উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা।
অভিজ্ঞ প্রধান কোচ সোহেল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এই দলীয় ক্যাম্প পরিচালিত হবে। তবে এবারের যুব দলের কোচিং প্যানেলে অন্যতম বড় আকর্ষণ সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের অন্তর্ভুক্তি। জাতীয় ক্রিকেট দলের বিভিন্ন পজিশনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর বিসিবি তাকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং কোচের নতুন দায়িত্ব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা ও আশরাফুলের টেকনিক্যাল জ্ঞান তরুণ ব্যাটারদের আন্তর্জাতিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিসিবির অফিশিয়ালরা।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে আশরাফুল জানান, বিসিবি তার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছে, মাঠে নিজের সেরাটা দিয়েই তিনি তার প্রতিদান দিতে বদ্ধপরিকর। তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানো, আধুনিক শট নির্বাচন এবং ৫০ ওভারের দীর্ঘ ফরম্যাটে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার দক্ষতা তৈরি করার ওপর তিনি মূল নজর দেবেন। বিসিবির দেওয়া অর্পিত কাজ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহযোগী ও পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর উদীয়মান ক্রিকেটারদের বিকাশে এই টুর্নামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে যে, এবারের প্রতিযোগিতাটি ৫০ ওভারের মূল ওডিআই ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী মোট ৮টি দলকে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অবস্থান করছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল, আফগানিস্তান ‘এ’ দল এবং হংকং জাতীয় দলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে লড়াই করবে ভারত ‘এ’ দল, পাকিস্তান ‘এ’ দল, নেপাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই ওয়ানডে ফরম্যাটের নিয়ম মেনে খেলা হবে, যেখানে সেরা দুটি দল সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পাবে। কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং অনুশীলনে ঘাটতি দূর করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোই এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মূল লক্ষ্য।


