খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর তাঁতিদল নেতা হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফায়েক শেখকে (৪৩) রাজধানীর পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৭টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৪-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার ১২ নম্বর সেকশনের ই-ব্লকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ফায়েক শেখ খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকার শেখ ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি নিহত হুমায়ুন কবির হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। খুলনা মহানগরে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই রাজনৈতিক নেতা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি ফায়েক আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার এজাহারের তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হুমায়ুন কবির খুলনা মহানগর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি খুলনা নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে অবস্থিত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যান্টিন’ নামের একটি ফাস্টফুডের দোকানে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে ফায়েক শেখসহ অন্য আসামিরা ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সৈয়দ নূর আমিন বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় ফায়েক শেখসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন।
এসআরবি জানিয়েছে, ফায়েক শেখকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আড়ংঘাটা থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কেএমপির আড়ংঘাটা থানা এলাকায় ঘটলেও অভিযুক্ত আসামিদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী খালিশপুর থানা এলাকায়। মূলত পুরো রায়েরমহল এলাকাটি এই দুই থানার প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে বিস্তৃত। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সাড়াসি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


