যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। আটক শিক্ষকের নাম রাইয়ান আবদুল বাতেন। তিনি দেশটির খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টির অফিশিয়াল আইনশৃঙ্খলা রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হিলসবরো কাউন্টি পুলিশের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত পাবলিক রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাইয়ান বাতেনের বিরুদ্ধে পশুকামিতা বা প্রাণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অপচিত্র ধারণ, প্রচার এবং তা নিজের সংরক্ষণে রাখার অপরাধে মোট ১৩টি পৃথক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই প্রতিটি অভিযোগই ‘থার্ড ডিগ্রি ফেলনি’ বা তৃতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে ফ্লোরিডার ফ্যালকেনবার্গ রোড কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বুকিং সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া ১৩টি চার্জের প্রতিটির জন্য আড়াই হাজার মার্কিন ডলার করে জামিনের অঙ্ক ধার্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশি নথিতে অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ হলেও আইনি প্রক্রিয়ায় এগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডে রাইয়ান আবদুল বাতেন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী। বুয়েটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত তাঁর জীবনবৃত্তান্ত থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সালে তিনি বুয়েট থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ও ২০২২ সালে সফলভাবে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ ‘কম্পিউটেশনাল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড এআই’ (সিএসএসএআই) ল্যাবের পরিচালক পদেও রয়েছেন তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী অবস্থানের পক্ষে বেশ সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন রাইয়ান। সেই সময়ে অনলাইনে আন্দোলনের সপক্ষে নিয়মিত পোস্ট ও মত প্রকাশের কারণে নেটিজেনদের কাছে তিনি ‘প্রবাসের জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উচ্চশিক্ষিত এবং দায়িত্বশীল পদে থাকা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক ও গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশীয় শিক্ষাঙ্গন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


