মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গোপাল রাজবংশী
মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. সাহাদত (৪১) নামে চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বরটিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ করজনা গ্রামে আসামির নিজ দখলীয় বসতঘরে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে মানিকগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় মানিকগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, জেলা কার্যালয়ের মান্যবর উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সরাসরি দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই মাদকবিরোধী অভিযানটি পরিচালিত হয়। উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেনের নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ করজনা গ্রামে অবস্থিত সাহাদতের বসতবাড়িতে আকস্মিক ঘেরাও দিয়ে প্রবেশ করে এবং তল্লাশি চালায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বসতঘরের ভেতরে তল্লাশিকালে আসামি সাহাদতের নিজ হেফাজতে রাখা ৫০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকের উপস্থিতি সুনিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন আভিযানিক দলের সদস্যরা। আটককৃত মো. সাহাদত ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মোখলেস মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য থেকে জানা গেছে, আসামি সাহাদত দীর্ঘদিন ধরে ঘিওর উপজেলার বরটিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইয়াবা ও নানা ধরনের মাদকের কেনাবেচা চালিয়ে আসছিলেন। নিজের বসতঘরকে নিরাপদ গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে এলাকা জুড়ে মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর এই অবৈধ মাদক কারবারের কারণে এলাকার কোমলমতি কিশোর ও তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে বিপথগামী হচ্ছিল বলে স্থানীয় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে নানা সময়ে ক্ষোভ ও অভিযোগ তৈরি হয়েছিল।
ঘিওরে মাদকের এই অবৈধ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত ৫০ পিস ইয়াবাসহ সাহাদতকে আসামি করে ঘিওর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক নথিভুক্তকরণ শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দ্রুত মানিকগঞ্জ জেলা আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা এবং এর মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে এমন সাড়াসি অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।


