শরীয়তপুরের ডামুড্যায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে লামিয়া নামে এক গৃহবধূকে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত লামিয়া পাশের গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন মাতবরের মেয়ে। তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়াল একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজগর ছৈয়ালের ছেলে। তাঁদের বাড়ি শরীয়তপুর-ডামুড্যা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে লামিয়া ও রবিউলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকা দাবি করে রবিউল প্রায়ই লামিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে তাঁদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও যৌতুকের দাবিতে লামিয়াকে মারধর করেছিলেন রবিউল। একপর্যায়ে লামিয়ার বড় বোন তাঁকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি আবারও টাকা দাবি করলে লামিয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে সালিশ শেষ হওয়ার পর উপস্থিত লোকজন চলে গেলে লামিয়ার সঙ্গে রবিউলের আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে রবিউল লামিয়াকে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শরীয়তপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ছৈয়ালকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ এবং সালিশের পরপরই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় সামাজিক উদ্যোগ থাকলেও নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যৌতুক দাবি করা এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো নারী যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হলে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নেওয়া জরুরি।
লামিয়া হত্যার ঘটনায় প্রকৃত কারণ, ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


