জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী পান্না বিবিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যার অপরাধে স্বামী সিরাজুল ইসলাম শেখ ওরফে লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. হাসিবুল হক আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বেঞ্চ সহকারী সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম শেখ ওরফে লালু জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গুডুম্বা গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ঘোড়াদহ মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে পান্না বিবির সঙ্গে সিরাজুল ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। আর এই সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি ও পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
আদালতে উপস্থাপিত মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে স্বামী সিরাজুল ইসলামের সাথে স্ত্রী পান্না বিবির তীব্র বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সিরাজুল মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী পান্না বিবির গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরবর্তীতে নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৮ মার্চ সকালে খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত পান্না বিবির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পান্না বিবির বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় জামাতা সিরাজুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ পর্যালোচনা, নিবিড় শুনানি এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


