শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর এবং নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে সেই বিরোধ ক্রমেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দিকে গড়ায় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে। নিতাইরচক গ্রামের বাসিন্দা নানু মিয়ার বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায় জয়রামপুর গ্রামের এক যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে আলোচনা, বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় মুরুব্বিরা। শুক্রবার সকালে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে মোবাইল চুরির অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা এবং দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনা। তবে বৈঠকে বসে সমাধানে পৌঁছানোর পরিবর্তে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুই গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে তোফাজ্জুল মিয়া, জিতু মিয়া, আব্দুল আহাদ, আদম আলী, সোহেল মিয়া, সানু মিয়া, নানু মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুজ মিয়া, মারাজ মিয়া, হাবিবুর রহমান, এমদাদুল মিয়া, শিষ আলী, পারভেজ মিয়া, বিলাল মিয়া ও আক্কাস মিয়াসহ অনেকেই রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর, তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলতে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে এবং লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক সংঘর্ষ ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিরোধের জেরে যাতে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন চুরির মতো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আয়োজিত সালিশি বৈঠক থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা দ্রুত বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।


