ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মো. মাসুদ নামে এক যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নুরুল হুদা। তিনি জানান, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পরদিন শনিবার রাতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুদকে বহিষ্কার করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) এবং যুবদল নেতা মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকতের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাসুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্যসচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

দলীয় নেতারা জানান, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুবদলের স্থানীয় পর্যায়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বও আর থাকছে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

গ্রেপ্তারের পর তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের অবৈধ দখল, সংরক্ষণ, বহন, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা এবং উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পলাতক আসামি মো. জাফরের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও পুলিশের পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে কোনো নেতাকর্মীর গ্রেপ্তারের ঘটনা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। সুবর্ণচরে যুবদল নেতার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বের সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।