কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্ত রুট ব্যবহার করে আনা মাদকের একটি চালান ভেস্তে দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নাফ নদীসংলগ্ন কৌশলগত পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার কেরুনতলী খাল এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা কৌশল অবলম্বন করে সংলগ্ন ঘন লোকালয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন। তিনি জানান, নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ক্ষতিকর ইয়াবা মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড সতর্ক অবস্থানে থাকে। প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিসিজি স্টেশনের একটি বিশেষ টহল দল অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে টেকনাফ উপজেলার কেরুনতলী খাল এবং তার আশপাশের নাফ নদীর তীরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ওই নির্জন খাল পাড়ে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক আনাগোনা চোখে পড়ে আভিযানিক দলের। কোস্ট গার্ডের টহল সদস্যরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করে কাছাকাছি এগোতে থাকলে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা সঙ্গে থাকা প্যাকেট ফেলে রেখে দ্রুত অন্ধকারের সুযোগে গহীন লোকালয়ের দিকে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে ওই স্থানের আশপাশের ঝোপঝাড় ও নদীসংলগ্ন এলাকায় তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা নীল রঙের প্লাস্টিকের একটি প্যাকেট উদ্ধার করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা। প্যাকেটটি খুলে গণনা করে দেখা যায় সেখানে মোট ১০ হাজার পিস ইয়াবা রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সীমান্ত এলাকায় ইয়াবাসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান ও মাদকের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদী সীমান্ত ও জলপথে যেকোনো অপরাধ দমনে বিসিজির টহল ও নজরদারি সার্বক্ষণিক জোরদার রাখা হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবার চালানটির বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে সক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত আলামত টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


