বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের শত্রুতাবশত প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত খোরশেদ আলম (৩৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। পাঁচ দিন ধরে টানা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত ৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাদলা হাট এলাকায় তাঁর ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছিল। খোরশেদের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ ও দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা দক্ষিণপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকার একটি প্রভাবশালী পক্ষের সঙ্গে খোরশেদের পরিবারের দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ৫ নভেম্বর সকালে খোরশেদ আলম মাদলা হাট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সদাই করে একা হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হাট সংলগ্ন মতির ইলেকট্রিক দোকানের সামনে পৌঁছামাত্র পূর্ব ওত পেতে থাকা আসামিরা তাঁর পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খোরশেদ আলমের মাথা, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে খোরশেদের কাছে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মারাত্মক আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
এই ঘটনায় নিহত খোরশেদ আলমের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা মো. আনসার আলী বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় আটজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—মো. মাহফুজার (৪৬), তাঁর দুই ছেলে মো. জাফর (২৫) ও মো. জাহিদুল (২৪), মো. বেলাল (৭০), বেলালের দুই ছেলে মো. সুমন (৪০) ও মো. ফজল (৪০), মো. সেহজাদ (৪৫) এবং তাঁর ছেলে মো. কিমন (২৩)। অভিযুক্তদের সবার বাড়ি উপজেলার মাদলা দক্ষিণপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকায়।
এদিকে রক্তক্ষয়ী হামলার খবর চাউর হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর পাল্টাপাল্টি কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল জোর তৎপরতা ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


