জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও শোডাউনের একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা ও গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার পৌরসভার নিউ মার্কেট এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দিবসটি উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির একাংশের উদ্যোগে রোববার বিকেলে নিউমার্কেট চত্বরে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি রাশেদা বেগম হীরা। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান লিটন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খানসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে তাঁদের একটি মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরের দিকে যায়।
অন্যদিকে, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী ও সাবেক সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বে দলের আরেকটি বলয় দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজউদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক সমাবেশ আহ্বান করে। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী। এই পক্ষের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও মিছিলটি দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের অভিমুখে এগোতে থাকলে কালাচাঁন মার্কেট এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এবং অনুষ্ঠানের অতিথিরা উপজেলা চত্বর ছেড়ে মূল সড়কে ওঠার মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের নেতা-কর্মীরা হুট করে হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে এমপির গাড়িতে আঘাত করা হয় এবং জাতীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এ সময় বহরে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও তিতুমীর কলেজের সাবেক জিএস এম এ আউয়াল খানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আউয়াল খান অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে প্রতিপক্ষরা কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও এমপি রাশেদা বেগম হীরাকে জড়িয়ে কটু মন্তব্য করে। প্রতিবাদ জানালে এ এফ এম তারেক মুন্সীর উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তবে তারেক মুন্সী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন।
অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রাশেদা বেগম হীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ক্ষোভ বা মতভেদ থাকলে তা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করা যেত, কিন্তু রাজপথে গাড়িবহরে হামলা চালানো কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। ঘটনার আকস্মিকতায় পুলিশ দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের নিরাপদে এলাকা পার করে দেয়। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মরিউজ্জামান জানান, দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকল অতিথিকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


